গীবত কি এবং কাকে বলে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০২৪ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

গীবত কি এবং কাকে বলে

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকে আমরা আলোচনা করব গীবত কি এবং কাকে বলে। গীবত শব্দের আভিধানিক অর্থ কারো পেছনে সমালোচনা করা এবং কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের সামনে তুলে ধরা। সহজ বাংলায় যেটাকে পরনিন্দা বলে। ইসলাম ধর্মে গীবত করা খুবই গুনাহের কাজ এবং কবিরা গুনাহ।

গীবত কি এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, আর তোমরা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না। (সূরা হুজরাত: আয়াত ১২)

সূরা হুমাজা, আয়াত ১-৯ তে বলা হয়েছে, যারা কারো পিছনে ও সম্মুখে মানুষের নিন্দা করে তাদেরকে অবশ্যই হুতামাতে অর্থাৎ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। হুতামাহ হচ্ছে জাহান্নামের একটি স্তর।

গীবত কি এবং কাকে বলে

গীবত সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জানো গীবত কি এবং কাকে বলে? সাহাবীরা বললেন, এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (সা.) ভালো জানেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা তোমাদের ভাই সম্পর্কে এমন সকল কথা বল যেগুলো সে অপছন্দ করে। তাই গীবত। পরিপ্রেক্ষিতে সাহাবীরা বললেন, সেই দোষটা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলে কি সেটিকে গীবত বলে গণ্য হবে।

উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, তুমি যেই দোষের কথাটি বলছো সেটা যদি তোমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলে অবশ্যই সেটি গীবত বলে গণ্য হবে। আর তুমি যেটা বলছো সেটা যদি তার মধ্যে না থাকে তাহলে সেটিকে মিথ্যা এবং অপবাদ আরোপ করছো (মুসলিম)।

যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে কিংবা মিথ্যা কথা বলে তাহলে ইসলামের শাস্তি অনুযায়ী তাকে ৮০টি চাবুকের আঘাত দেয়া হবে। সেই সাথে এরা ফাসেক এবং পাপী। ইসলামের শরীয়তে আদালতে এদের সাক্ষী গ্রহণযোগ্য হবে না।

গীবত কি এবং কাকে বলে

গীবত করা বা পরানিন্দা করা ইসলামের শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম এবং নিষিদ্ধ একটি কাজ। শুধুমাত্র অন্যের নামে গীবত করায় ঘৃণিত কাজ নয় বরং সেটি শোনাও সমান অপরাধ। আবার অনেকেই এটিকে শুধুমাত্র পাপ কিংবা নিষিদ্ধ কাজ বলে মনে করে না বরং মদ্যপান, চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচার থেকেও এটিকে মারাত্মক পাপ এবং নিকৃষ্টতম কবিরা গুনাহ বলে মনে করে। অন্যান্য অনেক পাপ তওবার দ্বারা মাফ করা হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি গীবত করে তার শুধুমাত্র তওবা করলেই পাপ মাফ হবে না। যে ব্যক্তির নামে গীবত করা হয়েছে সেই ব্যক্তি যদি মাফ করে তাহলেই ক্ষমা পাওয়া যেতে পারে। এই একটি কবিরা গুনায় কোন ব্যক্তিকে জাহান্নামে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

শিক্ষক হতে কি কি যোগ্যতা লাগে জানতে এখানে প্রবেশ করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

গীবত কি এবং কাকে বলে

আপডেট সময় : ০২:১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০২৪

আজকে আমরা আলোচনা করব গীবত কি এবং কাকে বলে। গীবত শব্দের আভিধানিক অর্থ কারো পেছনে সমালোচনা করা এবং কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের সামনে তুলে ধরা। সহজ বাংলায় যেটাকে পরনিন্দা বলে। ইসলাম ধর্মে গীবত করা খুবই গুনাহের কাজ এবং কবিরা গুনাহ।

গীবত কি এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, আর তোমরা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না। (সূরা হুজরাত: আয়াত ১২)

সূরা হুমাজা, আয়াত ১-৯ তে বলা হয়েছে, যারা কারো পিছনে ও সম্মুখে মানুষের নিন্দা করে তাদেরকে অবশ্যই হুতামাতে অর্থাৎ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। হুতামাহ হচ্ছে জাহান্নামের একটি স্তর।

গীবত কি এবং কাকে বলে

গীবত সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জানো গীবত কি এবং কাকে বলে? সাহাবীরা বললেন, এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (সা.) ভালো জানেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা তোমাদের ভাই সম্পর্কে এমন সকল কথা বল যেগুলো সে অপছন্দ করে। তাই গীবত। পরিপ্রেক্ষিতে সাহাবীরা বললেন, সেই দোষটা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলে কি সেটিকে গীবত বলে গণ্য হবে।

উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, তুমি যেই দোষের কথাটি বলছো সেটা যদি তোমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলে অবশ্যই সেটি গীবত বলে গণ্য হবে। আর তুমি যেটা বলছো সেটা যদি তার মধ্যে না থাকে তাহলে সেটিকে মিথ্যা এবং অপবাদ আরোপ করছো (মুসলিম)।

যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে কিংবা মিথ্যা কথা বলে তাহলে ইসলামের শাস্তি অনুযায়ী তাকে ৮০টি চাবুকের আঘাত দেয়া হবে। সেই সাথে এরা ফাসেক এবং পাপী। ইসলামের শরীয়তে আদালতে এদের সাক্ষী গ্রহণযোগ্য হবে না।

গীবত কি এবং কাকে বলে

গীবত করা বা পরানিন্দা করা ইসলামের শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম এবং নিষিদ্ধ একটি কাজ। শুধুমাত্র অন্যের নামে গীবত করায় ঘৃণিত কাজ নয় বরং সেটি শোনাও সমান অপরাধ। আবার অনেকেই এটিকে শুধুমাত্র পাপ কিংবা নিষিদ্ধ কাজ বলে মনে করে না বরং মদ্যপান, চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচার থেকেও এটিকে মারাত্মক পাপ এবং নিকৃষ্টতম কবিরা গুনাহ বলে মনে করে। অন্যান্য অনেক পাপ তওবার দ্বারা মাফ করা হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি গীবত করে তার শুধুমাত্র তওবা করলেই পাপ মাফ হবে না। যে ব্যক্তির নামে গীবত করা হয়েছে সেই ব্যক্তি যদি মাফ করে তাহলেই ক্ষমা পাওয়া যেতে পারে। এই একটি কবিরা গুনায় কোন ব্যক্তিকে জাহান্নামে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

শিক্ষক হতে কি কি যোগ্যতা লাগে জানতে এখানে প্রবেশ করুন।